বাংলা নাটকের ইতিহাসে দীনবন্ধু মিত্রের অবদান আলোচনা করো।
সূচনা : বাংলা নাট্যসাহিত্যে প্রথম যুগের খ্যাতিমান নাট্যকারদের মধ্যে দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩ খ্রি.) অন্যতম ছিলেন। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দীনবন্ধু মিত্রের প্রতিভার মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাট্যকারের সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং সুগভীর সহানুভূতির কথা উল্লেখ করেছেন। দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক ‘নীলদর্পণ’ তাঁর এই অভিজ্ঞতার ফসল।
নাট্যসম্ভার : নাট্যজগতে আবির্ভূত হওয়ার পর দীনবন্ধু মিত্র যে নাটকগুলি লিখেছেন সেগুলিকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়— ট্রাজেডি, কমেডি ও প্রহসন। এই তিন শ্রেণির রচনা নিম্নে উল্লিখিত হলো,
- ট্রাজেডি = নীলদর্পণ
- কমেডি = লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, কমলে কামিনী।
- প্রহসন = বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী, জামাই বারিক।
নাট্যসাহিত্যে অবদান
(a) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক সামাজিক ট্রাজেডি হলো ‘নীলদর্পণ’। নীলচাষ ও নীলকর সংক্রান্ত সমস্যাকে নিয়ে এই নাটক লিখিত হয়েছে। নীলকর সাহেবরা কীভাবে নীলচাষিদের উপর অত্যাচার করত, তার করুণ চিত্র এই নাটকে দেখা যায়। সমকালীন সমাজে এই নাটকের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
(b) দীনবন্ধু মিত্র তিনটি কমেডি নাটক লিখেছেন। জীবনকে সরস দৃষ্টিতে দেখার যে অসাধারণ ক্ষমতা তাঁর ছিল, তার প্রকাশ এই নাটক তিনটিতে লক্ষ করা যায়।
(c) বিবাহ বাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিবাহকে ঘিরে যে কৌতুক সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ে ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’ প্রহসন রচিত। তবে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ‘সধবার একাদশী’ সর্ব-উৎকৃষ্ট।
(d) সে যুগের কলকাতার ইংরেজি শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের ভ্রষ্ট চরিত্রের কাহিনি ‘সধবার একাদশী’ নাটকে বর্ণিত হয়েছে। নিমচাঁদ চরিত্র সে যুগের ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত যুব-সম্প্রদায় শ্রেণির প্রতীক।
(e) ‘জামাই বারিক’ নাটকে অভিজাত পরিবারে ঘরজামাই রাখার ব্যাপারকে অবলম্বন করে নাট্য বিষয় নির্মিত হয়েছে।
(f) বাংলা রঙ্গমঞ্চের ক্রমবিকাশের ইতিহাসে দীনবন্ধু মিত্রের ভূমিকা কম নয়। তাঁর বহু নাটক পেশাদারি মঞ্চে নিয়মিত অভিনীত হয়েছে। এককথায় সমসাময়িক বাংলার যে সমাজ তা চিত্রায়নে তিনি সফল হয়েছেন।
