“মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে” – বক্তা কে? সকল দেনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সে দেনা কীভাবে শোধ করা সম্ভব?
(উত্তর) প্রথমাংশের উত্তর : ঔপনিষদিক কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রূপনারানের কূলে’ (‘শেষলেখা’ কাব্য) কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন কবি স্বয়ং।
দ্বিতীয়াংশের উত্তর : রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শময় এই পৃথিবীতে মানুষ আজীবন যা অর্জন করে সেগুলিকেই কবি সকল দেনা বলে উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয়াংশের উত্তর : জীবনের উপান্তে উপনীত হয়ে কবি স্বয়ং উপলব্ধি করেছেন, বিশ্ব প্রকৃতি থেকেই মানুষ জন্মলাভ করে। জন্ম-মৃত্যুর মাঝে যে ক্ষণিক সময়, ততদিন মানুষ অর্জন করে চলে সুখ-আনন্দ-হতাশা-প্রত্যাশা কিংবা দুঃখ। গোটা জীবনের এই সঞ্চয় বা দেনা মানুষ কখনোই তার জীবদ্দশায় পরিশোধ করতে পারে না। মৃত্যুর পর পঞ্চভূতে মিলিত হওয়ার মধ্যে দিয়েই সে দেনা শোধ করতে হয়। এই ভাবনা থেকেই কবি উচ্চারণ করেছেন,
“সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।”
অর্থাৎ বিশ্ব প্রকৃতির মাঝে মানুষ আজন্ম ঋণী। জীবনের এই নির্মম তথা অনিবার্য সত্যকে গ্রহণ করে মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে জীবনের সকল অর্জিত দেনা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন কবি।
