বাংলা চিত্রকলায় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অবদান লেখ।
(উত্তর) আধুনিক চিত্রকলা ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি : বাংলা শিল্পকলার ইতিহাসে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির একটি বিশিষ্ট স্থান রয়েছে। ঠাকুরবাড়ির দক্ষিণের বারান্দা কিংবা “বিচিত্রা স্টুডিও”র চিত্রচর্চা একসময় সমগ্র ভারতবর্ষকে শিল্পের দিক নির্দেশনা দিয়েছিল। এই পরিবার থেকেই আধুনিক বাংলা চিত্ররীতির সূচনা ঘটেছিল বলা যায়। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়। এছাড়াও যাঁদের নামোল্লেখ করতে হয়, তাঁরা হলেন–গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সুনয়নী দেবী। প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ঠাকুরবাড়ির অবদান
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর :
- নব্যবঙ্গ চিত্ররীতির জনক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেন আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার পুরোধা। পাশ্চাত্যরীতির পাশাপাশি প্রাচ্যরীতির চিত্রকলা চর্চা তাঁর তুলিতেই প্রথম প্রকাশিত হল। প্রথমদিকে তিনি প্যাস্টেল, অয়েল পেন্টিং, জল রং পদ্ধতিতে চিত্রাঙ্কন করতেন।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে বৈষ্ণব পদাবলীকে বিষয় হিসাবে বেছে নিলেন। এই বিষয়কন্দ্রিক “শ্বেতঅভিসারিকা”, “কৃষ্ণলীলা” সিরিজের চিত্রগুলি আধুনিক চিত্রকলার সূচনা করে। তাঁর অপর একটি শৈল্পিক দক্ষতা হল জলরঙে ‘ওয়াশ’ পদ্ধতিতে ছবি আঁকা। জাপানি ‘ওয়াশ’ পদ্ধতির সঙ্গে অবনীন্দ্রনাথের ‘ওয়াশ’ পদ্ধতির মিল নেই। ফলত এই ধরনের চিত্র হয়ে উঠল পেলব ও মৃদু।
- অবনীন্দ্রনাথের বিখ্যাত চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে – ‘কচ ও দেবযানী’, ‘ভারতমাতা’, ‘অশোকের রানি’, ‘কাজরী নৃত্য’, ‘অন্তিম শয্যায় শাহজাহান’ ইত্যাদি।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর :
- পরিণত বয়সে চিত্রচর্চা শুরু করলেও চিত্রকলার জগতে তিনি বিশিষ্টতার ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জাপানি শিল্পীর কাছে কালি-তুলি আর ওয়াশের কাজ শিখেছিলেন। এই পদ্ধতিতে তিনি ‘টুয়েল্ভ ইংক স্কেচেস’ নামে একটি ছবির অ্যালবামও তিনি প্রকাশ করেন।
- সমসাময়িক বিখ্যাত পত্রিকায় ব্যঙ্গচিত্র এঁকে তিনি সুনাম অর্জন করেন।
