“এই ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল!” – কে অপেক্ষা করছিল? তার পরিণতি কী হয়েছিল?
(উত্তর) সূচনা : নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ (‘বনলতা সেন’ কাব্য) কবিতায় নামকরণের কেন্দ্রবিন্দু হল একটি সুন্দর বাদামি হরিণ। কবিতায় কবি হরিণটির মর্মান্তিক পরিণতি ব্যক্ত করেছেন।
প্রথম অংশ :’শিকার’ কবিতায় সুন্দর বাদামি হরিণ সারারাত চিতাবাঘিনির হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছিল। সেই বাদামি হরিণটিই ভোরের অপেক্ষা করছিল।
দ্বিতীয় অংশ : সুন্দর বাদামি হরিণটি সারারাত ধরে চিতাবাঘিনির থেকে আত্মরক্ষার জন্য, আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে পালানোর জন্য সুন্দরী গাছের বন থেকে অর্জুনের বনে ছুটে বেড়িয়েছে। ভোরের আলো ফুটলে হরিণটি ক্ষুধানিবারণের জন্য কচি বাতাবিলেবুর মতন সবুজ ঘাস খেয়েছে। নিজেকে আত্মরক্ষার উল্লাসে সূর্যের আলোর সোনার বর্শার মতো বিস্তীর্ণ উল্লাসে হরিণটি আত্মপ্রকাশ করেছে। ক্লান্তি মেটাতে নদীর তীক্ষ্ণ শীতল জলে স্নান করতে নেমেছে হরিণটি।
নতুন স্বপ্ন নিয়ে হরিণটির বেঁচে থাকার উল্লাসের মুহূর্তেই বন্দুকের গুলির একটি শব্দ নিশ্চিত করেছে তার মৃত্যু। মুহূর্তেই নদীর জল হয়েছে মচকাফুলের মতো লাল। বাদামি হরিণটি পরিণত হয়েছে মানুষের ভোগ্যবস্তুতে। এই মুহূর্তে শিকারিদের পাশবিক উল্লাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
