‘এসেছে সে ভোরের আলোয় নেমে’ – সেই ভোরের বর্ণনা দাও। ‘সে’ ভোরের আলোয় নেমে আসার পর কী কী ঘটল, লেখো। (২০২০)

‘এসেছে সে ভোরের আলোয় নেমে’ – সেই ভোরের বর্ণনা দাও। ‘সে’ ভোরের আলোয় নেমে আসার পর কী কী ঘটল, লেখো।

(উত্তর) সূচনা : নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ (‘বনলতা সেন’ কাব্য) কবিতায় নামকরণের কেন্দ্রবিন্দু হল একটি সুন্দর বাদামি হরিণ। কবিতায় কবি হরিণটির মর্মান্তিক পরিণতি ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় ‘ভোর’ : কবিতায় দ্বিতীয় ভোরের অনুষঙ্গে করুণ পরস্থিতির চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। সারারাত চিতাবাঘিনির থেকে আত্মরক্ষা করে একটি হরিণ তার অবসন্ন শরীরকে আবেশ দেওয়ার জন্য নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নামে। বাতাবিলেবুর মত সবুজ সুগন্ধি ঘাস হরিণটিকে গভীর প্রশান্তি দেয়। রাতের হিমকুঞ্চিত জরায়ু ছিঁড়ে আত্মরক্ষার বিজয়ী উল্লাসে সে সূর্যের আলোয় বর্শার মতো স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করতে চায়। বাদামি সুন্দর হরিণটি এই সুন্দর ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল।

পরবর্তী ঘটনা : কিন্তু এই সুন্দর ভোরের করুণ পরিণতি পাঠক লক্ষ করে পরবর্তী একটি ঘটোনায়। নাগরিক মানুষের লালসার একটা গুলির অদ্ভুত শব্দ হরিণটিকে নিধন করে। শিকারীর পাশবিকতায় দৃশ্যপট তখন মচকা ফুলের পাপড়ির মতো লাল, রক্তাক্ত। ‘অদ্ভুত শব্দে’ পরবর্তী দৃশ্যপট করুণ হয়ে ওঠে। যে সুন্দর বাদামি হরিণ সারারাত চিতাবাঘিনীর হাত থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করেছিল; সে শিকারির হিংস্র বর্বরতায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ভোরের সুন্দর পরিবেশ এই ঘটনায় হয়ে যায় একান্তই পৈশাচিক উল্লাসের ক্ষেত্র, টেরিকাটা মানুষদের আগ্রাসন ভূমি।

error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত