বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাসে যামিনী রায়ের অবদান আলোচনা করো।

বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাসে যামিনী রায়ের অবদান আলোচনা করো।

ভূমিকা : বাংলা তথা ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে যামিনী রায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভ্রাম্য মুৎশিল্পীদের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করার সুবাদে বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে একটা শিল্পী মন গড়ে উঠেছিল।

চিত্রশিল্প শিক্ষা : বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন শেষ করে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে ভরতি হন। এরপর তাঁর চিত্রচর্চা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ অ্যাকাডেমিক অর্থাৎ স্বাভাবিকতাবাদী রীতি অনুসারে। এমনকি কিছুদিনের জন্য তিনি ফরাসি ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পীদের মতো চিত্রচর্চা করেছিলেন।

চিত্রশিল্প চর্চা : যামিনী রায়ের স্বজাত্যাভিমান তাঁকে লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করে। বিশেষত পটশিল্প তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করতো। পটচিত্র বিষয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে তিনি বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পটচিত্র সংগ্রহ শুরু করেন এবং দীর্ঘ অনুশীলন করে চিত্রভাষা অর্জন করেন।

চিত্রের বিশেষত্ব : নিজস্ব আঙ্গিকে এবং ভাবনায় আজও তিনি স্বতন্ত্র। তাঁর চিত্রের বিশেষত্বগুলি হলো—

ক. তিনি সমতল জলরঙে আঁকতেন।

খ. তাঁর চিত্রিত সমগ্র পট জুড়েই বিচিত্র মানুষজন ও পশুপাখির অবস্থান পরিলক্ষিত হয়।

গ. সমতল ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকে ছোটো-বড়ো অলংকরণ।

ঘ. তাঁর ছবির বিষয়গুলি ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। রামায়ণ-মহাভারতের নর-নারী, যিশুখ্রীস্ট, আদিবাসী সমাজ, পশুপাখি সবকিছুই ঠাঁই পেয়েছে যামিনী রায়ের ছবিতে।

উল্লেখযোগ্য চিত্র : তাঁর আঁকা গুরুত্বপূর্ণ চিত্র হলো—সাঁওতাল জননী ও শিশু, নৃত্যরত সাঁওতাল, রাধাকৃষ্ণ, যিশু, গণেশজননী প্রভৃতি।

শেষ কথা : সুদীর্ঘ ৫০ বছর তিনি শিল্প সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। চিত্রকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ১৯৫৫ সালে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘ডিলিট’ ডিগ্রিতে বিভূষিত করেছিল।

error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত