[মান – ৫] “দিন দিন কেমন যেন হয়ে যেতে লাগল মৃত্যুঞ্জয়।”—মৃত্যুঞ্জয় কেমন হয়ে যেতে লাগল ? তার এমন হয়ে যাওয়ার কারণ কী?

(উত্তর)

মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবর্তন : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছিল। ‘নিরীহ শান্ত, দরদি ভালমানুষ’ মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়ার সময় ফুটপাথে দুর্ভিক্ষপীড়িত নিরন্ন মানুষের মৃত্যু দেখে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ঘটনার অভিঘাতে সে নিজের উদাসীনভাবে বেঁচে থাকাকে দায়ী করে এবং অনাহারী মানুষদের অন্নসংস্থান করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে। একবেলা খাওয়া ছেড়ে সে মাইনের সমস্ত টাকা নিখিলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয় রিলিফ ফান্ডে। 

শহরের আদি-অন্তহীন ফুটপাথে, বিভিন্ন লঙ্গরখানায় ঘুরে অন্নপ্রার্থী মানুষের ভিড়ে মিশে সে বুঝে নিতে চায় –“কোথা থেকে কিভাবে কেমন করে সব ওলোট পালোট হয়ে গেল”। পরিবর্তিত সমাজ-পরিবেশের সঙ্গে মৃত্যুগুয়ের মন অভিযোজিত হতে পারে না। “কিছুই কি করা যায় না।’—এই এক চিন্তা তাকে ঠেলে দেয় নৈরাশ্যের গাঢ় অন্ধকারে। আর এসবেরই অনিবার্য পরিণতিতে মৃত্যুঞ্জয় ক্রমে অমনোযোগী হয়ে পড়ে অফিসের কাজে। একটা সময় পর থেকে দায়িত্ববোধসম্পন্ন মৃত্যুঞ্জয় দেরি করে অফিসে যায়, কাজে ভুল করে, চুপ করে বসে থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যায় অফিস থেকে।

এমন হওয়ার কারণ : মানুষ দু-মুঠো খাদ্যের চাহিদায় শহরের গলিঘুঁজিতে অসহায়ভাবে ঘুরে চলে। ফুটপাথ জুড়ে অগণিত মানুষ মারা যায় অনাহারে। এমনই এক নিরন্ন মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে আলোচ্য গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়ের অন্তর্বয়ান ক্রমে বদলে যেতে থাকে। “…আমি বেঁচে থাকতে যে লোকটা না খেয়ে মরে গেল, এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কী?” মৃত্যুঞ্জয়ের এমন আত্ম-অনুশোচনা ক্রমে তার আত্মযন্ত্রণায় পরিণত হয়। তাই নিজের ভালো থাকার চেয়ে দুর্ভিক্ষপীড়িত, অসহায়, অন্নহীন মানুষগুলোকে ভালো রাখার দায়িত্ব সে নিজেই নিতে চায়। মৃত্যুঞ্জয় কী উপায়ে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করবে এই ভাবনায় ক্রমশ নিজে বদলে যেতে থাকে।

error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত