[মান – ৫] ‘মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয়’–মৃত্যুঞ্জয় কে ? তার বাড়ির অবস্থা শোচনীয় কেন?

(উত্তর)

১ম অংশ : সমাজসচেতন কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উনিশশো তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ-মন্বন্তরের পটভূমিতে লেখা ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।

দুর্ভিক্ষপীড়িত, অসহায়, অন্নহীন মানুষগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টায় গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় সংসারবিমুখ হয়ে পড়লে তার বাড়িতে নামে শোকের ছায়া। মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে তার স্ত্রী তথা টুনুর মা একবেলার খাবার বাঁচিয়ে তা বিলিয়ে দেয় ফুটপাথবাসী অন্নপ্রার্থী মানুষদের। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে টুনুর মা, বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা হারায় সে। এ অবস্থাতেও সে বাড়ির সকলকে মৃত্যুঞ্জয়ের খোঁজ আনতে বলে। খিদের জ্বালায়, অনাদরে, অবহেলায় বাড়ির ছোটোরা সবসময় কাঁদে, সকলের মুখেই কাঁদো কাঁদো ভাব। এমন পরিস্থিতিতে নিখিলকে বারবার এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হয়।

২য় অংশ : ফুটপাথে দেখা এক অনাহারে মৃত্যু স্পর্শকাতর মৃত্যুঞ্জয়ের মনে অনন্ত জিজ্ঞাসা জাগিয়েছিল। স্বার্থপর হয়ে বেঁচেবর্তে থাকার পরিবর্তে সে বাঁচাতে চেয়েছিল দুর্ভিক্ষের শিকার সকল মানুষকেই। তাই সংসারের ক্ষুদ্র কর্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে সে পৌঁছে গিয়েছিল সমাজের বৃহত্তর সমস্যার কাছাকাছি।

শহরের ফুটপাথে, বিভিন্ন লঙ্গরখানায় ঘুরে অন্নপ্রার্থী মানুষের ভিড়ে মিশে সে বুঝে নিতে চেয়েছিল—“কোথা থেকে কিভাবে কেমন করে সব ওলোট পালোট হয়ে গেল”। সব কিছু বুঝেও কিছু করতে না পারার অক্ষমতা শেষপর্যন্ত তাকেই বদলে দিয়েছে। এবং এর প্রভাবে তার বাড়ির অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছে।

error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত