ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার ইতিহাসে বরাহমিহিরের কৃতিত্ব বিচার করো।

[উ] ভূমিকা—ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে আর্যভট্টের পরে যাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন বরাহমিহির। ভারতীয় সংস্কৃতির সুবর্ণযুগে মগধের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে বরাহমিহিরের জন্ম। বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একটি রত্ন বরাহমিহির ৫০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পৃথিবীতে ছিলেন।

(১) জ্যোতিষগ্রন্থ—জ্যোতিষ সংক্রান্ত বরাহমিহিরের রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো,

(ক) বৃহৎসংহিতা (খ) লঘুজাতক (গ) বৃহজ্জাতক (ঘ) পঞ্চসিদ্ধান্তিকা প্রভৃতি।

(২) পঞ্চসিদ্ধান্তিকা—গণিত জ্যোতিষের ক্ষেত্রে বরাহমিহিরের পাঁচখানি গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য রয়েছে, যা একসঙ্গে ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ নামে পরিচিত। সিদ্ধান্তগুলি বরাহমিহিরের মৌলিক গ্রন্থ নয়, এগুলি উৎকৃষ্ট সংকলনমাত্র। নিম্নে এগুলি সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

(২.ক) পৈতামহসিদ্ধান্ত : এটি মূলত কাল বিভাজন গ্রন্থ। এখানে বছর বিভাজন, সৌরমাস, চান্দ্রমাসের বিভাজনসূত্র বর্ণিত হয়েছে।

(২.খ) বাসিষ্ঠসিদ্ধান্ত : এখানে চন্দ্রের অবস্থান নির্ণয়ের নিয়মাবলি, শঙ্কুছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ণয় এবং তার সাহায্যে সূর্যের অবস্থান গণনার পদ্ধতি, দিনরাত্রির পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতি প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে।

(২.গ) সৌর বা সূর্যসিদ্ধান্ত : ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল নির্ণয়ের বিভিন্ন গণনা পদ্ধতি আছে।

(২.ঘ) রোমকসিদ্ধান্ত : এটি মূলত পাশ্চাত্য গণিত জ্যোতিষের সারসংকলন। এখানে বরাহমিহির পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়কে ভারতীয় পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন।

(২.ঙ) পৌলিশসিদ্ধান্ত : ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’-র প্রথম অধ্যায় পৌলিশসিদ্ধান্ত। এখানে আছে রবিপথ ও চান্দ্রপথের বিভিন্নতা, অধিমাস ও তিথিপ্রলয়ের সংখ্যা নির্ণয় প্রভৃতি।

মূল্যায়ন—ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানকে যাঁরা বিশ্বের দরবারে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন তাঁদের মধ্যে বরাহমিহির হলেন অন্যতম।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত