“শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্” অবলম্বনে যেসব পৌরাণিক কাহিনির উল্লেখ পাই তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। অথবা, দেবী গঙ্গাকে শংকরমৌলিবিহারিণী, ভাগীরথী, মুনিবর-কন্যা ও ভীষ্মজননী বলা হয়েছে কেন?

[] সংস্কৃত পণ্ডিত এবং দার্শনিক শংকরাচার্য শ্রীগঙ্গার অলৌকিক মাহাত্ম্য-কীর্তন করতে গিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনির উল্লেখ করেছেন।

যেমন :–

(ক) শংকরমৌলিবিহারিণী গঙ্গা : পুরাণ মতে  রাজা দিলীপের পুত্র ভগীরথ সগররাজার ষাট হাজার সন্তানকে উদ্ধার করার জন্য শিবকে সন্তুষ্ট করে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে আনলে শিব তাঁকে মস্তকে ধারণ করেন। এজন্য গঙ্গার আবির্ভাব শিবের জটা থেকে—এমনই প্রচার আছে।

(খ) ভাগীরথী : ভগীরথ গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে এনেছিলেন বলেই গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী।

(গ) মুনিবর-কন্যা জাহ্নবী : ভগীরথ যখন গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আনছিলেন তখন তাঁর জলপ্রবাহে জহ্নু মুনির আশ্রম ও যজ্ঞের সরঞ্জাম প্লাবিত হয়, তাতে রেগে গিয়ে তিনি গঙ্গাকে পান করেন। পরে তিনি ভগীরথের স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গাকে তার কান বা মতান্তরে জানু দিয়ে বের করে দেন। সেইজন্য গঙ্গার অপর নাম হল “মুনিবরকন্যা জহ্নু-তনয়া জাহ্নবী”।

(ঘ) ভীষ্মজননী গঙ্গা : মহর্ষি বশিষ্ঠের অভিশাপে অষ্টবসু মানুষ রূপে পৃথিবীতে জন্ম নিতে বাধ্য হন। গঙ্গা তাদের জন্ম ও মুক্তির আশ্বাস দেন। গঙ্গা হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনুকে বিবাহ করেন। রাজা শান্তনু ও গঙ্গার অষ্টম পুত্র হলেন দেবব্রত। পরবর্তীকালে দেবব্রত বিবাহ না করা এবং সিংহাসনের দাবি না-করার কঠিন প্রতিজ্ঞার জন্য তিনি ‘ভীষ্ম’ নামে খ্যাত হন। তাই গঙ্গা হলেন  ‘ভীষ্মজননী’।

[] এইভাবে পণ্ডিত শংকরাচার্য গঙ্গার মাহাত্ম্য-কীর্তন প্রসঙ্গে ভারতের পুরাণ-কাহিনির উল্লেখ করেছেন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত