“কিন্তু হাতি-বেগার আর চলল না।”—হাতি-বেগার আইন কী ? তা আর চলল না কেন? [২০১৬] / [অথবা] “তাই প্রজারা বিদ্রোহী হয়ে উঠল”—প্রজারা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল কেন? এই বিদ্রোহের ফল কী হয়েছিল?

।। গারো পাহাড়ের নীচে ।।

[উ] সূচনা—সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের রিপোর্টাজধর্মী রচনা ‘আমার বাংলা’র ‘গারো পাহাড়ের নীচে’ শিরোনামাঙ্কিত অংশে ‘হাতি-বেগার’ প্রসঙ্গটি রয়েছে। গারো অঞ্চলে প্রচলিত নিষ্ঠুর সেই অলিখিত আইন সম্পর্কে লেখক বিশেষ তথ্য দিয়েছেন।

হাতিবেগার প্রথা—ময়মনসিংহ-র গারো পাহাড় অঞ্চলে অনেককাল আগে প্রচলিত ছিল এক জমিদারি আইন, নাম হাতিবেগার। জমিদারদের হাতি ধরার শখপূরণের জন্য পাহাড়ে মাচা বেঁধে তার উপরে সেপাইসান্ত্রি নিয়ে নিরাপদে, নিরিবিলিতে বসতেন জমিদার। কিন্তু হাতি সহজে ধরা না দেওয়ায় এই শখ মেটানোর এক ভয়ানক নিয়ম তৈরি হয়। প্রত্যেক গ্রাম থেকে চাল, চিড়ে বেঁধে প্রজাদের আসতে হত। যে জঙ্গলে হাতি আছে সেখানে তাদের বেড় দিয়ে দাঁড়াতে হত। যে-কোনো বয়সের প্রজাকে হাতি বেড় দিতে গিয়ে সাপের কামড়ে, বাঘের আক্রমণে প্রাণ দিতে হলেও প্রথা অমান্য করার উপায় ছিল না।

বিদ্রোহের কারণ—এইধরনের নিষ্ঠুর প্রথার পাশাপাশি ছিল জমিদারদের অত্যাচার ও শোষণ। উৎপাদিত ফসলের বেশিরভাগ অংশ নিয়ে যেত জমিদারের লোকজন। জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতে প্রজারা নিঃস্ব হয়ে পড়ত। এইসব কারণে এই অঞ্চলের প্রজারা শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল।

পরবর্তী পরিস্থিতি—দীর্ঘকাল প্রচলিত এই অত্যাচার এবং জমিদার-মহাজনদের শোষণ সহ্য করতে না পেরে বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রজারা গোরাচাদ মাস্টারের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। গোপনে বিভিন্ন স্থানে মিটিং বসল, কামারশালায় তৈরি হতে থাকে অস্ত্রশস্ত্র। লড়াই বাঁধল জমিদারের লাঠিয়ালদের সঙ্গে। অপটু চাষিদের পরাজয় হলেও এই বিদ্রোহের পরিণামে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় ‘হাতিবেগার’ প্রথা।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত