“এত ফসল, এত প্রাচুর্য—তবু কিন্তু মানুষগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় জীবনে তাদের শান্তি নেই।“—মানুষগুলোর জীবনযাত্রার পরিচয় দাও। তাদের জীবনে শান্তি নেই কেন? [২০২০] / [অথবা] গারো পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী ‘হাজং’দের জীবনযাত্রার পরিচয় দাও।

।। গারো পাহাড়ের নীচে ।।

[উ] সূচনা—সুভাষ মুখোপাধ্যায় ‘গারো পাহাড়ের নীচে’ (‘আমার বাংলা’ প্রবন্ধ গ্রন্থ) নিবন্ধে গারো পাহাড়-সংলগ্ন হাজং-ডালু-গারো-কোচ প্রভৃতি মানুষের কথা বলতে গিয়ে তাদের দুঃখের সঙ্গী হয়েছেন। তিনি বলেছেন, সুসং পরগনার সীমান্ত যারা ফসলে ভরিয়ে দেয়, জমিদারের অত্যাচার থেকে তাদেরও রেহাই নেই।

প্রথম অংশ—গারো পাহাড়ের পাহাড়তলি এলাকায় জমি অত্যন্ত দুর্গম ও অনুর্বর হওয়ায় সেই অঞ্চলের পরিশ্রমী অধিবাসীরা অত্যন্ত কষ্ট করে ফসল ফলায়। তাদের হাল-বলদ নেই। তারা জঙ্গল পুড়িয়ে ‘ঝুমচাষ’ করে। জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে হরিণ-শুয়োর শিকার করে খায়।

ফসল খামারে তোলার সময় তারা দারিদ্র্য মুছে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। লেখক বলেছেন- ধান কাটার সময় হলে নারী-পুরুষ সবাই কাস্তে নিয়ে মাঠে যায়। ছোটো ছেলেরা পিঠে ধানের আঁটি বেঁধে খামারে দিয়ে আসে। কিন্তু উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আগেই জমিদারের পাইক-বরকন্দাজ ‘শনি’র মতো আবির্ভূত হয়ে খাজনা বাবদ ফসল নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় অংশ—গাঁয়ের আলবাঁধা রাস্তায় ঘোড়ার খুরের শব্দ কিংবা নাগরা জুতোর খটখট শব্দে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ছোটো ছেলেরা ভয়ে মায়ের আঁচলে লুকোয়, খিটখিটে বুড়িরা পেয়াদাদের অভিশাপ দিতে থাকে। জমিদারকে টাকা দিতে গিয়ে কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হয়। ‘শনি’র দৃষ্টিতে ছারখার হয়ে যায় সুসং পরগনার অধিবাসীদের স্বপ্ন। সুদখোর মহাজন ও জমিদারের শোষণে এরা স্বাভাবিক ও সচ্ছল জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের জীবনের কথা নিজেরাই ছড়ার মাধ্যমে বলে—

বারবার ধান বুনে জমিতে

মনে ভাবি বাঁচা যাবে আরামে।

তারপর পালে আসে পেয়াদা

খালি পেটে তাই লাগছে ধাঁধা।।

এইভাবে লেখক সাধারণ মানুষের দুঃখকে এবং জমিদারের শোষণের চিত্রটি নিপুণভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত