“এই ঘরের মধ্যে জীবনকে উপলব্ধি করা যাবে না”—‘জীবনকে উপলব্ধি’ করার জন্য বক্তা কী করেছিলেন? শেষে তাঁর কীরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল ? [অথবা ]”জীবন কোথায়?”—কে কাকে বলেছেন? বক্তা জীবনকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে করেন ? [২০১৯]

[উ] প্রথম অংশ—বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র রচিত ‘বিভাব’ নাটক থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশের বক্তা শম্ভু। জন রুচি অনুযায়ী হাসির নাটকের বিষয় সন্ধানে শম্ভু তাঁর সহ-অভিনেতা অমর গাঙ্গুলিকে নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়েন।

দ্বিতীয় অংশ—প্রেমের দৃশ্যের মাধ্যমেও যখন হাসির নাটকের খোরাক পাওয়া গেল না, তখন শম্ভু ও অমর চার দেওয়ালের বাইরে জীবনকে উপলব্ধি করতে বেরিয়ে পড়ে। বিশেষ নাট্যভঙ্গির মাধ্যমে তাদের সামনে একটা ব্যস্ত রাস্তার দৃশ্য উপস্থাপিত হয়। এক একজন ব্যক্তি কেউ একটি মোটরের, কেউ বাসের, কেউ হাত-রিকশার, কেউ ট্রামের ছবি নিয়ে মুখে আওয়াজ করতে করতে তাদের অতিক্রম করে যায়। অমর যেন বাসে চাপা পড়ছিলেন, তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে শম্ভু মিত্র বাসচালককে ধমকে ওঠেন।

এরপর রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা সমকালীন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ান। তাঁরা অন্ন ও বস্ত্রের দাবিতে একটা মিছিল এগিয়ে আসতে দেখেন। এইসময় পুলিশ এসে তাদের থামাতে গেলে শম্ভু ও অমর আত্মগোপন করেন।

তৃতীয় অংশ—জীবনের বাস্তবতায় তাঁরা প্রত্যক্ষ করেন যে, মিছিলকারীরা পুলিশের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে স্লোগান দিতে থাকে—“চাল চাই, কাপড় চাই”। এবং  সেই মিছিলে একসময় পুলিশ গুলি চালায় ৷ যার ফলস্বরুপ একটি ছেলে ও একটি মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পুলিশ মার্চ করতে করতে চলে যায়। মঞ্চ লাল আলোয় ভরে যায়। অমর এসে আহত মেয়েটির মাথায় হাত দেন। শম্ভু মিত্র উপলব্ধি করেন, মন্বন্তর-উত্তীর্ণ দ্বিধাবিভক্ত বাঙালি জীবন উদ্বাস্তু সমস্যা ও খাদ্যসঙ্কটে জর্জরিত। সেখানে হাসির আর কোনো উপাদানই অবশিষ্ট নেই।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত