“পৃথিবীতে সবচেয়ে পপুলার জিনিস হচ্ছে প্রেম।“— ‘বিভাব’ নাটকে প্রেমের অভিনয়কে কেন্দ্র করে যে ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ করা যায়, তা সংক্ষেপে বিবৃত করো।

[উ] সূচনা—’বিভাব’ নাটকে নাট্যকার শম্ভু মিত্র শম্ভু চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে হাসির খোরাক সংগ্রহ করে, নাট্য উপস্থাপনার মাধ্যমে লোককে হাসাতে চেয়েছেন। কিন্তু হাসি অত সহজ বস্তু নয়। মানুষ অকারণে হাসতে পারে না। তাই নাটকের অপর চরিত্র অমর ‘হিউম্যান ইন্টারেস্ট’ বা ‘পপুলার অ্যাপিল’ আনা দরকার বলে মতপোষণ করেন নাটকে। তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে পপুলার জিনিস কী?—এই প্রশ্ন উঠলে উত্তর আসে প্রেম। অতএব প্রেমের অভিনয়ের জন্য দরকার হয় ‘লভ সিন’।

ঘটনাপ্রবাহ

(১ম) নাটকের এই পর্যায়ে লভ সিনের প্রয়োজনীয় শর্ত নায়ক-নায়িকার দরকার হয়। ঠিক হয় শম্ভু নায়ক এবং বৌদি নায়িকা হবেন। ঘরটাকে রাস্তা ধরে নিয়ে ‘লভ সিনে’ নায়িকার কলেজ ফেরার পথে নায়ক কর্তৃক ধাক্কার প্রসঙ্গ আসে। দেখা যায় নায়কের এই ধাক্কা বউদিকে উত্তেজিত করে। নেপথ্যে প্লে-ব্যাক হিসাবে রবীন্দ্রনাথের ‘মালতী লতা দোলে’ গানটি শোনা যায়। কিন্তু সেই প্রেমের দৃশ্য তেমন জমে ওঠে না।

(২য়) পরবর্তী প্রেমের দৃশ্যটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বউদি বলেন—“এটা অন্যরকমের লভ সিন; প্রগ্রেসিভ লভ সিন।“ শম্ভু মিত্র এই পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ‘underground political leader’ না হলে সেখানে গল্প ‘progressive’ হবে না। তাকে পালাতে উৎসাহ দেন বউদি। একসময় নাট্যঘন মুহূর্তে শম্ভুকে কল্পিত জানলা টপকে পালাতে হয়। শম্ভুর জন্য বউদির চোখে জল আসার ভঙ্গি আরোপিত হয়। প্রেম যেন কথা বলতে চায়, কিন্তু তা তেমন সাড়া ফেলে না। অবশেষে বউদি রাগ করে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

এইভাবে দুটি প্রেমের দৃশ্যে তথাকথিত প্রেমের ভাবনা নিয়ে সমকালীন প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করেছেন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত