বাংলার ক্রিকেটের জনক কাকে বলা হয়? ক্রিকেটে তাঁর অবদান লেখ।

সূচনা

ইংল্যান্ডে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু হয়। ১৫৫০ খ্রি. নাগাদ ইংল্যান্ডে এই খেলা জনপ্রিয়তা লাভ করে।  ভারতে ক্রিকেটে সূচনা হয় ইংল্যান্ডের হাত ধরেই। বর্তমানে ক্রিকেটে ভারতের একচ্ছত্র অধিকার লক্ষ করা যায়।

            বাঙালি ক্রিকেটার হিসেবে চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ সারদারঞ্জন রায়চৌধুরীর বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি বাংলার ক্রিকেটের জনকরূপে পরিচিত।

ক্রিকেটে অবদান

সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী (১৮৫৯-১৯২৬) চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ। জন্ম তাঁর কিশোরগঞ্জের মধুয়া গ্রামে, বিখ্যাত রায়চৌধুরী পরিবারে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে তাঁকে বলা হত বাঙালি ডব্লিউ জি গ্রেস (কিংবদন্তী ব্রিটিশ ক্রিকেটার)।

‘যখন ছোট ছিলাম’ বইয়ে সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন, ‘ঠাকুরদার পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই ছাড়া সবাই ব্রাহ্ম হয়েছিলেন। সারদা ও মুক্তিদা হিন্দুধর্মে থেকে গেলেন। এই দুই ভাই খেলাধুলা করতেন। ক্রিকেট শুরু করেন সারদা, তারপর সেটা রায় পরিবারে হিন্দু ব্রাহ্ম সব দিক ছড়িয়ে পড়ে’। তাঁর কথাটি যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য। নিজেদের নেশা পরিবারে আটকে না থেকে ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে। সত্যজিৎ রায় বাংলা চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বস্তরে। আর সাহেবদের হাত থেকে বাংলায় ক্রিকেটযাত্রা শুরু করেন গণিতের অধ্যাপক সারদারঞ্জন রায়।

সে সময় ক্রিকেট খেলত ইংরেজরাই। ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দল। রায়চৌধুরীরা পাঁচ ভাই মিলে গড়ে তুলেছিলেন ঢাকা কলেজ ক্রিকেট ক্লাব। পরে টাউন ক্লাবও গড়ে তোলেন কলকাতায় (১৮৮৪)। দুই দলেরই ক্যাপ্টেন ছিলেন সারদারঞ্জন। দুটি দলই নিয়মিত সাহেবদের দলের বিরুদ্ধে খেলত। বাংলায় জেলাভিত্তিক ক্রিকেট দল গড়ে তুলে তাঁরা আন্তঃজেলা টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে থাকেন। ক্রিকেটের নিয়মকানুন নিয়ে প্রথম বাংলা বই ‘ক্রিকেট খেলা’ লিখেছিলেন সারদারঞ্জনই।

            ১৮৮৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সি ক্লাবের সঙ্গে এক খেলায় ঢাকা কলেজ জয়লাভ করে। এই খেলায় নেতৃত্বে ছিলেন সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত