চিত্রকলার ইতিহাসে ভাস্কর ও চিত্রকর রামকিঙ্কর বেইজের অবদান ও স্বকীয়তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। [২০১৫]

[উ] ভূমিকা—নন্দলাল বসুর সাহচর্যে প্রশিক্ষিত ভাস্কর ও চিত্রকর রামকিঙ্কর বেইজ (১৯০৬—১৯৮০) তাঁর অসামান্য শিল্পচর্চার মাধ্যমে সর্বপ্রথম আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্পকে নিজের ভাস্কর্যে প্রয়োগ করেছিলেন।

চিত্রকলা শিক্ষা—শৈশব থেকেই দেবদেবীর চিত্রাঙ্কনে, পুতুল গড়ায়, পোস্টার লেখায়, থিয়েটারের মঞ্চসজ্জায় তাঁর সহজাত প্রতিভার প্রকাশ লক্ষ করা যায়। ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সাহচর্যে তিনি শান্তিনিকেতনে এলে নন্দলাল বসুর সান্নিধ্যে চিত্রকলায় প্রথাগত শিক্ষালাভে ব্রতী হন।

স্বকীয়তা—রামকিঙ্কারের শিল্পীসত্তার যথার্থ মুক্তি ঘটে শাস্তিনিকেতনে এসে। তাঁর মাথার উপর ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সহায়ক ছিলেন গুরু নন্দলাল বসু ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি সিমেন্টের সঙ্গে কাঁকর মিশিয়ে শান্তিনিকেতনে উন্মুক্ত প্রকৃতির কোলে অসাধারণ কিছু ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। চারপাশের প্রকৃতি, মানুষের গ্রাম্য জীবন ইত্যাদি নিয়ে তিনি তেলরং ও জলরঙে ছবি এঁকেছেন।

উল্লেখযোগ্য চিত্রকলা ও ভাস্কর্য—রামকিঙ্করের ‘সুজাতা’ দেখে রবীন্দ্রনাথ মুগ্ধ হন। এ ছাড়াও ‘হাটের সাঁওতাল পরিবার’, ‘কাজের শেষে সাঁওতাল পরিবার’, ‘সাঁওতাল দম্পতি’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে—বুদ্ধের মুর্তি (শান্তিনিকেতন), সাঁওতাল পরিবার (শান্তিনিকেতন), যক্ষী মূর্তি (রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ভবন) প্রভৃতি।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত