বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায় পরিচালক মৃণাল সেনের অবদান আলোচনা করো।

[উ] ভূমিকা =

মৃণাল সেন (১৯২৩—২০১৮) বাংলা চলচ্চিত্রের এক ব্যতিক্রমী পরিচালক। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম ছবি ‘রাতভোর’ এবং ২০০২ খ্রিস্টাব্দে শেষ চলচ্চিত্র ‘আমার ভুবন’ মুক্তি পায়। তাঁর চলচ্চিত্র শিল্পগুণে সমৃদ্ধ, সময় ও সমাজের ইতিহাস প্রতিফলিত হয়। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক।

চলচ্চিত্রে মৃণাল সেনের অবদান

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘রাত-ভোর’ মুক্তি পায়। এই ছবিটি বেশি সাফল্য পায় নি। তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘নীল আকাশের নিচে’ তাঁকে স্থানীয় পরিচিতি এনে দেয়। আর তৃতীয় ছবি ‘বাইশে শ্রাবণ’ থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান।

চলচ্চিত্র সমূহ =

মৃণাল সেন পরিচালিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চলচ্চিত্রের নাম এখানে উল্লিখিত হলো–নীল আকাশের নীচে, বাইশে শ্রাবণ, পুনশ্চ, প্রতিনিধি, আকাশ কুসুম, ভুবন সোম, ইন্টারভিউ, কলকাতা ৭১, পদাতিক, আকালের সন্ধানে, খারিজ, আমার ভুবন প্রভৃতি। মৃণাল সেন বাংলা ভাষা ছাড়াও হিন্দি, ওড়িয়া ও তেলুগু ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেন, যথা—মুভিং পার্স্পেক্টিভ, ক্যালকাটা মাই এল ডোরাডো, ত্রিপুরা প্রসঙ্গ প্রভৃতি।

মৃণাল সেনের ছবি বিশ্ব মানব সমাজের রূপ-গুণ-স্বভাব-চরিত্র প্রকাশ করেছে। মৃণাল সেন তাঁর ছবিতে সামাজিক ও মানবিক সম্পর্কগুলি সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখেছেন। পরিচালক যদিও মনে করেন ‘আমার একটাও ছবি নেই যা নির্ভুল।’ মৃণাল সেনের এই অতৃপ্তিই  তাঁকে বাংলা তথা ভারতীয় তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রের জগতে এক মাইলফলক করে গড়ে তুলেছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা =

মৃণাল সেন পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলি প্রায় সবকটি বড় চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কার জয় করেছে। ভারত এবং ভারতের বাইরের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। তিনি ভারত সরকার দ্বারা পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত