বাংলার চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘ম্যাডান থিয়েটার’-এর গুরুত্ব / অবদান আলোচনা করো।

[উ]

সূচনা =

স্টিফেন্সের হাত ধরে বাংলায় বায়োস্কোপের প্রদর্শনীর সূত্রপাত। বিদেশি বায়োস্কোপ নির্মাতারা কলকাতায় বায়োস্কোপ প্রদর্শনী করতে আগ্রহী হন স্টিফেন্সের সাফল্যে। পারসি ব্যবসায়ী জামশেদজি ফ্রামজি ম্যাডান বা জে. এফ. ম্যাডানের হাত ধরেই বাংলা সিনেমা প্রদর্শনীর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।

ম্যাডান থিয়েটার ও বাংলা সিনেমা

১৯০২ সালে ম্যাডান সাহেব প্রথমে ময়দানের একটি তাঁবুতে বায়োস্কোপ প্রদর্শন শুরু করেন এবং তাঁর কোম্পানির নাম দেন ‘এলফিনস্টোন পিকচার প্যালেস’। এরপর তিনি দু-বছরের মধ্যেই ‘ম্যাডান থিয়েটার লিমিটেড’ স্থাপন করেন। পরিচালক অমর চৌধুরী, অভিনেতা শিশির ভাদুড়ি, নরেশ মিত্র, কাননদেবী, অমৃতলাল বসু প্রমুখদের নিয়ে সবাক-নির্বাক, স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণাঙ্গ ইত্যাদি একশোরও বেশি ছবি তৈরি করে ‘ম্যাডান থিয়েটার লিমিটেড’। মোট ৬২টি ছবি ম্যাডানের প্রযোজনায় তৈরি হয়েছিল।

প্রথমদিকে ম্যাডান থিয়েটারে ইংরেজি সিনেমা দেখানো হলেও ১৯১৩ সালের পরে হিন্দি সিনেমা দেখানো হতে থাকে। এরপর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে দাদাসাহেব ফালকের ‘রাজা হরিশচন্দ্র’, রুস্তমজী ধোতিওয়ালা পরিচালিত ‘সত্যবাদী রাজা হরিশ্চন্দ্র’ নামের পৌরাণিক ছবি দিয়ে ম্যাডানের বাংলা সিনেমা দেখানোর যাত্রা শুরু হয়। তারপর ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন ভাষায় ‘বিল্বমঙ্গল’, ‘নল-দময়ন্তী’, ‘ভীষ্মপ্রতিজ্ঞা’, ‘বিষবৃক্ষ’, ‘সরলা’, ‘কপালকুণ্ডলা’ ইত্যাদি চলচ্চিত্র ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ম্যাডানকে চিরস্মরণীয় করেছে।

উল্লেখযোগ্য অবদান

  1. ১৯১৯ ম্যাডান কোম্পানির প্রযোজনায় প্রথম বাংলা কাহিনিচিত্র ‘বিল্বমঙ্গল’ নির্মিত হয়।
  2. ১৯২৮ সালে এই কোম্পানি প্রথপম সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে Melody of Love দেখিয়েছিল।
  3. ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তারাই তৈরি করে প্রথম বাংলা সবাক চিত্র ‘জামাইষষ্ঠী’।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত