[মান–৫] চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার ও এর রচনাকাল সম্পর্কে লেখ।

[উ]

(ক) চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার = বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম প্রামাণিক নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কৃত হয় নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগারে। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে সুপণ্ডিত ভাষাতাত্ত্বিক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’-এর পুথি আবিষ্কার করেন। তিনি এই পুথির সঙ্গে আরও তিনটি পুথি উদ্ধার করেন। সেগুলি হল—

এক। চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়ের সংস্কৃত টীকা মুনিদত্তের ‘নির্মলগিরা’।

দুই। সরোজবজ্র ও কৃষ্ণাচার্যের লেখা দুটি দোঁহাকোষ এবং দোঁহাকোষের দুটি সংস্কৃত টীকা।

তিন। ডাকার্ণব।

সর্বমোট চারটি পুথি একত্রিত করে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোঁহা’ নামে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

(খ) চর্যাপদের রচনাকাল = আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষা এবং কবিদের জীবিতকাল অনুসারে প্রাচীন বাংলার এই সাহিত্যিক নিদর্শনের রচনাকাল ১০ম থেকে ১২শ শতাব্দী বলে গ্রহণ করেছেন। মহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যার আনুমানিক রচনাকাল ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দী বলেছেন। যাইহোক চর্যার ভাষা, রচনারীতি ও কবিদের আর্বিভাবকাল অনুসারে এর রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী বলা যায়।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত