দ্বৈত শাসনব্যবস্থা কী? দ্বৈত শাসনব্যবস্থার ফলাফল আলোচনা করো।

দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা

১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানির দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানির হাতে সমস্ত নিজামত ও দেওয়ানি ক্ষমতা চলে আসে।  এই পরিস্থিতিতে নবাবের নামে শাসন চললেও বাস্তবে কোম্পানির হাতেই প্রকৃত ক্ষমতা ছিল। নবাবের হাতে ছিল বাংলার প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না। আবার কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা থাকলেও ব্যয় বহনের দায়িত্ব কোম্পানি এড়িয়ে যেত। ১৭৬৫ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলায় যে দ্বিমুখী শাসন প্রচলিত হয়েছিল, তা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা নামে অভিহিত হয়।

দ্বৈত শাসনের ফলাফল

এই ব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্ব ছিল, যেমন—

(১) আর্থিক শোষণ = দ্বৈত শাসনের সময় কোম্পানি বাংলায় তীব্র আর্থিক শোষণ শুরু করে। রাজস্ব আদায়কারীদের তীব্র অত্যাচার সাধারণ মানুষের জীবন অভিষ্ট করে তোলে।

(২) কৃষকদের উচ্ছেদ = আগে কৃষকদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হত না। কিন্তু দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ করতে গিয়ে ইজারাদারও কৃষকদের ওপর রাজস্বের হার অত্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এই রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ কৃষকদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।

(৩) বাংলার রাজস্ব ব্যবহার = আগে ভারতে কোম্পানির বাণিজ্যের জন্য ইংল্যান্ড থেকে অর্থ পাঠানো হত। দেওয়ানি লাভের পর ইংল্যান্ড থেকে অর্থ পাঠানো বন্ধ হয় এবং বাংলার রাজস্বের অর্থ নিয়ে পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা হয়।

(৪) একচেটিয়া বাণিজ্য = কোম্পানি বাংলায় লবণ, সুপারি, তামাক প্রভৃতি কয়েকটি পণ্যের ওপর একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার পায়। এর ফলে দেশীয় বণিকরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(৫) দুর্নীতি = দ্বৈত শাসনের সময় কোম্পানির কর্মচারিরা ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। কোম্পানির কর্মচারিদের নির্যাতন ও দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষের অবস্থা খুব শোচনীয় হয়েছিল।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত