ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে জেমস মিলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দাও।

[] পরিচয় = স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা জেমস মিল ছিলেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক, রাষ্ট্রনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক। তিনি কখনও ভারতবর্ষে না এসেও বিভিন্ন তথ্য, মহফেজখানার নথিপত্র প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে জেমস মিলের দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে নীচে উল্লেখ করা হল—

[১] সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি = জেমস মিল সর্বপ্রথম সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতের ইতিহাস লেখার কাজ শুরু করেন। তাঁর ‘দ্য হিস্ট্রি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি ভারতের হিন্দু সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে নিকৃষ্ট হিসেবে দেখিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

[২] যুগ বিভাজন = জেমস মিল ভারতের ইতিহাসের সময়কালকে মূলত তিনটি যুগে ভাগ করেছেন। এগুলি হল – হিন্দু যুগ, মুসলিম যুগ, ব্রিটিশ যুগ। এই তিনটি যুগের সভ্যতাকে তিনি যথাক্রমে হিন্দু সভ্যতা, মুসলিম সভ্যতা ও ব্রিটিশ সভ্যতা বলে উল্লেখ করেছেন।

[৩] ভারতীয় সভ্যতাকে নিকৃষ্ট হিসেবে তুলে ধরা = মিলের অভিমত ছিল, ভারতীয় সমাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্রিটিশরা ভারতে আসার পূর্বে ভারতের সমাজ গতিহীন হয়ে পড়েছিল। এবং সামাজিক অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি ভারতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন চরিত্র, ধর্ম, সাহিত্য, শিল্প, আইনবিধি প্রভৃতি সবকিছুকেই নিকৃষ্ট বলে মনে করতেন।

[৪] ব্রিটিশ শাসনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা = জেমস মিলের মতে, ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মাধ্যমে ইউরোপীয় জ্ঞান, শিল্প, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ভারতীয়দের মধ্যে প্রসারিত হলে ‘অর্ধসভ্য’ ভারতীয়রা ‘সভ্য’ হয়ে উঠবে। ভারতের স্থানীয় শাসকদের চেয়ে ব্রিটিশ শাসকদের অধীনে ভারতীয়রা অধিক সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করবে। তাঁর মতে, ভারতীয়দের স্বাধীনতা দানের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ভারতে অনন্তকাল ধরে ব্রিটিশ শাসন টিকে থাকবে।

মূল্যায়ন = জেমস মিল ভারত সম্পর্কে যে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রবর্তন করেন তা ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল। কিন্তু আধুনিক কালের অনেক ভারতীয় ঐতিহাসিক ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে জেমস মিলের দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর সমালোচনা করেছেন। যথা—

(ক) জাতিবিদ্বেসী মনোভাবাপন্ন (খ) তথ্যে ভুল (গ) ভ্রান্ত যুগ বিভাজন প্রভৃতি।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত