‘প্রাচ্য-পাশ্চাত্যপন্থী’ কারা? বা, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব’ কী? বা ‘অ্যাংলিসিস্ট ও ওরিয়েন্টালিস্ট ডিবেট’ কী?

ভূমিকা: বাংলাদেশ তথা ভারতে চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ব্রিটিশরা আসার পর কলকাতায় বেশ কিছু ইংরেজি শিক্ষার স্কুল গড়ে ওঠে। এই দেশীয় ও ইংরেজি শিক্ষার সমর্থকরা দুটি দলে ভাগ হয়ে যান। যথা— প্রাচ্যপন্থী ও পাশ্চাত্যপন্থী।

প্রাচ্যপন্থী: ভারতে যে চিরাচরিত শিক্ষা প্রচলিত ছিল, তা দেশীয় শিক্ষা বা প্রাচ্য শিক্ষা নামেও পরিচিত ছিল। এই শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা।  পাঠশালা, চতুষ্পাঠী ও টোলে সংস্কৃত শিক্ষা দেওয়া হত।

         মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে আরবি ও ফারসি ভাষাশিক্ষার চল ছিল। গ্রামের মসজিদের পাশে মক্তব থাকত। সেখানে মৌলবিরা আরবি ও ফারসি ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা দিতেন। এই দেশীয় শিক্ষার সমর্থকরা প্রাচ্যপন্থী (Orientalist) নামে পরিচিত ছিলেন। এরা হলেন এইচ টি প্রিন্সেপ, উইলিয়াম জোন্স প্রমুখ।

পাশ্চাত্যপন্থী: কলকাতাকেন্দ্রিক কয়েকটি ইংরেজি স্কুলে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান ও গণিতশিক্ষা প্রভৃতি দেওয়া হত। এই শিক্ষাকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বলা হত। এই শিক্ষার সমর্থকদের পাশ্চাত্যপন্থী (Anglicists) বলা হত। আলেকজান্ডার ডাফ, ট্রেভেলিয়ন, মেকলে এদের নেতা ছিলেন।

মূল্যায়ন: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে কোম্পানিকে এদেশে জনশিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই টাকা পাওয়ার জন্য শিক্ষাবিদরা দুটি দলে বিভক্ত হন। দেশীয় শিক্ষার সমর্থকরা ‘প্রাচ্যপন্থী’ ও ইংরেজি শিক্ষার সমর্থকরা ‘পাশ্চাত্যপন্থী’ নামে পরিচিত হন। ‘মেকলে মিনিট’ প্রকাশের পর এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছিল।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা
error: সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত